আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ-পোরশা

ইন্নীনের তালাক প্রসঙ্গে

( ফতোয়া ও মাস‘আলা-মাসায়েল : পোস্ট কোড: 18950 )

বরাবর,
ফতোয়া বিভাগ, আল-জামি‘আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়া,পোরশা,নওগাঁ।
বিষয়: ইন্নীনের তালাক প্রসঙ্গে।
প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
মুহতারাম মুফতী সাহেব!
এক ব্যক্তি আকদে নিকাহের পর স্ত্রীকে বিভিন্ন শর্তে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করেন, যার একটি ছিল- “পুরুষত্ব হীনতা থাকলে”। অতঃপর তিনি নিজ স্ত্রীর সাথে চার রাত সহবাস করার চেষ্টা করেন। (তারপর তার স্ত্রী স্বামীর সাথে আর থাকেনি)। কিন্তু এ কয়দিনের কোনদিনই তিনি স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে পারেননি; কারণ, তার পুরুষাঙ্গ পর্যাপ্ত পরিমাণ মজবুত হয়ে দাঁড়ায়নি।
উল্লেখ যে, ১. তার পূর্ণ অবস্থা এমন ছিল- ফোরপ্লেতে তার পেনিসে ইরেকশন পূর্ণভাবে ঠিক থাকতো, কিন্তু সহবাস শুরু করার আগের মূহুর্তে পেনিসে শিথিলতা চলে আসতো, যেকারণে সে সঙ্গম করতে সক্ষম হয়নি। তবে প্রত্যেক আগের দিনের তুলনায় পরের দিন তার পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর মাত্রা বেশি ছিল; কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ শক্ত না হওয়ায় তিনি সহবাস করতে পারেননি।
২. একজন অভিজ্ঞ যৌন বিশেষজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার উক্ত ব্যক্তির সকল অবস্থা শুনে এবং তার শারীরিক ও মেডিকেলি অন্যান্য পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, তার মধ্যে যৌন অক্ষমতার কোন কারণ বিদ্যমান নেই। তবে যা ঘটেছে সেটা মূলত নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে মানসিক ও পরিস্থিতি-ভিত্তিক প্রতিক্রিয়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “সিচুয়েশনাল পারফরম্যান্স অ্যানজাইটি” (Situational Performance Anxiety) বলা হয় (যা উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও প্রত্যাশা, পারফরম্যান্সে অতিরিক্ত মনোযোগ.. এ জাতীয় কারণে ঘটে)। অর্থাৎ তার এই সমস্যাটি সাময়িক, যা কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে এবং তিনি স্ত্রী সহবাস করতে সক্ষম হবেন।
এ পর্যায়ে শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবের নিকট প্রশ্ন হল-
১. কোন যৌন অক্ষমতার কারণে স্ত্রী স্বামী থেকে বিচ্ছিন্নতার দাবি করতে পারে বা তালাক গ্রহণ করতে পারে? সাময়িক অক্ষমতার কারণে নাকি স্থায়ী অক্ষমতার কারণে?
২. শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত ব্যক্তি কে যৌন অক্ষম তথা عنين গণ্য করা যাবে?
৩. এ কয়দিন ঘটে যাওয়া অবস্থার উপর ভিত্তি করে উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী কি স্বামীর যৌন অক্ষমতা কারণ দর্শিয়ে এখনই নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে? নাকি স্বামীকে এক বছর সুযোগ দেওয়ার পর সে সুস্থ (যৌন সক্ষম) না হলে, তখন তালাক গ্রহণ করতে পারবে?
৪. উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী যদি উল্লেখিত কারণ দর্শিয়ে এখনই নিজের উপর তালাক পতিত করে, তাহলে সে কি পুর্ণ মহর পাবে?
অনুগ্রহ করে এ বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট সমাধান জানিয়ে আমাকে চির কৃতজ্ঞ করবেন।
নিবেদক
মুহা.তাওহীদুল ইসলাম
بسم الله الرحمن الرحيم،حامدا ومصليا ومسلما
সমাধান: ১। স্থায়ীভাবে যৌন অক্ষমতার কারণে স্ত্রী স্থানীয় সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে স্বামীর থেকে পৃথক হওয়ার দাবি করতে পারবে। আর তার সময়সীমা হল সালিশী বৈঠকে তাকে চিকিৎসার সময় দেওয়ার পর থেকে এক বছর অক্ষম থাকা।
২। শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে উক্ত ব্যক্তিকে যৌন অক্ষম ধরা যাবে না। কেননা যৌন অক্ষমতা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এক বছর অক্ষম থাকা আবশ্যক।
৩। এই কয়দিন ঘটে যাওয়া অবস্থার উপর ভিত্তি করে উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর যৌন অক্ষমতার কারণ দর্শিয়ে এখনি নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে না। বরং স্বামীকে এক বছর সুযোগ দেওয়ার পর স্বামী যদি সুস্থ (যৌন সক্ষম) না হয়, তাহলে যে মজলিসে স্ত্রী স্বামীর সুস্থ না হওয়ার কথা জানবে ঐ মজলিসেই স্ত্রী চাইলে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে। মজলিস পরিবর্তন হয়ে গেলে আর নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে না।তখন সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে পৃথক হওয়ার ফায়সালা করে নিতে হবে।
৪। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাদের মাঝে নির্জনবাস হওয়ার কারণে স্ত্রী সর্ব অবস্থায় পুর্ণ মোহর পাবে।

 

الاحالة الشرعية على المطلوب
وفي “الهداية”(٢/٤٢٠) وإذا كان الزوج عنينا أجله الحاكم سنة فإن وصل اليها فبها وإلا فرق بينهما إذا طلبت المرأة ذلك هكذا روى عن عمر وعلي وابن مسعود ولأن الحق ثابت لها في الوطى ويحتمل أن يكون الإمتناع لعلة معترضة ويحتمل لافة أصلية فلابد من مدة معرفة لذلك وقدرناها بالسنة لإشتمالها على الفصول الاربعة فإذا مضت المدة ولم يصل اليها تبين أن العجز بافة أصلية ولها كمال مهرها إن كان خلابها فإن خلوة العنين صحيحة
وفي “فتح القدير”(٤/٢٦٨) قوله فلابد من مدة معرفة ذلك أى معرفة لكون الإمتناع بعلة معترضة أو أفة أصلية في أصل الحلقة فقدرناها بالسنة لأنها معروفة لذلك
وفي “الموسوعة الفقهية”(٣١/١٦) يرى جمهور الفقهاء أن المرأة إذا ادعت أن زوجها عنين لا يصل اليها وثبتت عنته أجل سنة واستدل الجمهور… بأن التأجيل لإبلاء العذر وتأجيل سنة عذر كاف وبأن العجز قد يكون لعنة قد يكون لمرض فضربت السنة ليتبين أنه عنة لا مرض فإذا مضت سنة ولم يصل اليها علم انه لافة أصلية
وفي “بدائع الصنائع”(٤/٣٠٨) أما التفويض المعلق بشرط فلا يخلو من احد وجهين إما أن يكون مطلقا عن الوقت وإما أن يكون مؤقتا بأن كان مطلقا بأن قال إذا قدم فلان فأمرك بيدك فقدم فلان فالأمر بيدها إذا علمت في مجلسها الذي يقدم فيه فلان لأن المعلق بالشرط كالمنجز عند الشرط فيصير قائلا عند القدوم أمرك بيدك فإذا علمت القدوم كان لها الخيار في مجلس علمها
وفي “الحيلة الناجزة”(٨٩) نامرد کی بیوی کا مہر اور عدت عبارت بالا کا ترجمہ یہ ہے کہ ایسی عورت کا پورا مہر اور بالاجماء اس پر عدت ہے بشرطیکے شوہر نے اس عورت سے خلوت کی ہو..انتهى، والله أعلم بالصواب

ফতোয়া প্রদান করেছেনঃ
মুফতি আব্দুল আলিম সাহেব (দা.বা.)
নায়েবে মুফতী-ফতোয়া বিভাগ
আল জামিয়া আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ-পোরশা, নওগাঁ ।

Fatwa ID: 18950
Scroll to Top