আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ-পোরশা

ইতিহাস ১৯৪৬-২০১৪ ইং

শেয়ার করুন !!

উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
আল জামিয়া আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা, নওগাঁ।

নওগাঁ, বাংলাদেশ
এর
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৪৬-২০১৪ ইং
-:রচনায়ঃ-
আলহাজ্ব মাওলানা শরীফুদ্দীন শাহ্ চৌধুরী
মহাপরিচালক, আল জামিআ আল আরাবিয়া দারুল হিদায়া
পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ ।
-:সম্পাদনায় :-
শাইখুল হাদীস আল্লামা রেজাউল করীম শাহ্ (রহঃ)
-:সহযোগিতায়ঃ-
মাওলানা মুরশিদ হাসান
মুফতী যুবায়ের আহমাদ
মাওলানা ইউসুফ
-:প্রকাশনায়ঃ-
প্রকাশনা বিভাগ, দারুলহিদায়া পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
১ম প্রকাশ: মে ২০১০ইং
২য় প্রকাশ: জুলাই ২০১১ ইং
৩য় প্রকাশ: ফেব্রুয়ারী ২০১৪ ইং

সূচী পত্র
বিষয় –

1. ভূমিকা
2. এক নজরে জামিয়া
3. পোরশা দারুল হিদায়াহ্ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
4. পরামর্শ সভায় উপস্থিত মুরুব্বীগণের নাম
5. মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন
6. মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন
7. মাদ্রাসার সূচনা
8. প্রথম মুহতামিম নিয়োগ
9. যুগে যুগে মুহতামিমগণ
10. দাওরায়ে হাদীসের সূচনা
11. যুগে যুগে শাইখুল হাদীসগণ
12. যুগে যুগে মাদ্রাসার সেক্রেটারীবৃন্দ
13. প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম আব্দুল হাই শাহ্
14. মাদ্রাসার শিক্ষা- বিভাগ সমূহ
15. মাদ্রাসা অন্যান্য বিভাগ সমূহ
16. মাদরাসার আয়-ব্যয়
17. যুগে যুগে ক্যাশিয়ারগণ
18. শিক্ষা বোর্ড গঠন
19. জামিয়া পরিদর্শনে যারা তাশরীফ এনেছেন
20. জামিয়ার স্মৃতিবাহক কবিতা
21. জামিয়ার মনোগ্রাম

ভূমিকাঃ
উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র পোরশা দারুলহিদায়া মাদ্রাসা ১৩৬৬ হিঃ মোতাবেক ১৯৪৬ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হয় । সুদীর্ঘ ৬৮ বছর যাবৎ এই প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনের খেদমতের আঞ্জাম দিয়ে আসছে। এই মাদ্রাসার ফারেগীন ছাত্রদের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গে বহু মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । সমাজ থেকে শির্ক বিদ’আত মূলোৎপাটন করে বিশুদ্ধ তাওহীদ, ঈমান- আকীদাহ ও সুন্নাত প্রতিষ্ঠায় এবং বাতেল ফেরকার মোকাবেলায় এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অপরিসীম ।
গত ২০০৯ ইং সনের নভেম্বর মাসে ড. আহসান সাইয়্যেদ রচিত “বাংলাদেশে হাদীস চর্চা, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ” বইটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয় । তার ৯৯ পৃষ্টায় পোরশা দারুলহিদায়া মাদ্রাসার পরিচিতি তুলে ধরা হয় । এতে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম শাইখুল হাদীস এবং মুহতামিম সম্পর্কে ভূল তথ্য পরিবেশন করা হয়। এ কারণে মাদ্রাসা সদস্যবৃন্দ ও শুভাকাঙ্খিগণ আমাকে মাদ্রাসার সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন ।
তাই আমি মাদ্রাসার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা শুরু করি। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুরুব্বীগণ বিশেষ করে মরহুম আব্দুল হাই শাহ্ এর সাথে আমার দীর্ঘ দিন উঠা-বসার সূযোগ হয়েছে এবং মরহুম জাফর শাহ্ নিজে ১৯৭৪ ইং সনে মাদ্রাসার প্রাথমিক কিছু ইতিহাস আমাকে শুনিয়েছেন । ফলে আমার জন্য এ ব্যাপারে কলম ধরা সহজ হয়েছে। এ ছাড়াও আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শাইখুল হাদীস মাওলানা রেজাউল করীম (রহ:) এর সাথে এ বিষয়ে মত বিনিময় করেছি । তাছাড়া মাদ্রাসার সংরক্ষিত রেজুলেশন ও নথিপত্রও এ কাজে অনেক সহায়ক হয়েছে ।
আল্লাহ তায়া’লার বিশেষ রহমতে এ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখা শেষ হওয়ার পর ১৩/০৫/১০ ইং তারিখে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মিটিং এ পেশ করা হলে, তা সর্ব সম্মতি ক্রমে গৃহিত হয় । পরিশেষে পাঠক মহোদ্বয়ের নিকট আরজ এই যে, কোন তথ্য বা বিষয়ে ভূল-ত্রুটি দৃষ্টি গোচর হলে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।

ইতি মাও. শরীফুদ্দীন শাহ্

এক নজরে জামিয়াঃ
নামঃ আল জামিয়া আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ , পোরশা , নওগাঁ।
ভৌগলিক অবস্থানঃ রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত নওগাঁ জেলার পোরশা থানার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত।
স্থাপিতঃ ১৩৬৬ হিজরী মোতাবেক ১৩৫৩ বাংলা ১৯৪৬ ইংরেজী।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মরহুম আব্দুল হাই শাহ চৌধুরী।
প্রথম পরিচালকঃ মাওলানা সালেহ আহমাদ সাহেব (রহ:)
বর্তমান মহা পরিচালকঃ হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ শাহ (দা:বা:)
আয়তনঃ তিন একর (৯ বিঘা)
সর্বচ্চ শিক্ষা স্তরঃ দাওরায়ে হাদীস, ইফতা, তাফসীর, উলুমুল হাদীস, আরবী সাহিত্য, আদব ও কেরাত বিভাগ।
বর্তমান ছাত্র সংখ্যাঃ ১৫৫০ জন।
বর্তমান শিক্ষক সংখ্যাঃ ৬০ জন।
বর্তমান কর্মচারী সংখ্যাঃ ২৩ জন।

পোরশা দারুল হিদায়াহ্ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটঃ
নওগাঁ জেলার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী এলাকা পোরশা থানার অন্তর্গত পোরশা একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম । এই গ্রামে ১৯২৭ইং সালেরও বহু বছর পূর্বে মাটির তৈরী একটি সিনিয়র মাদ্রাসা ছিল । ১৯২৭ ইং সালে আব্দুল হাই শাহ্ (রহ:) তার স্থানে হাই মাদ্রাসা নামে একটি মাদরাসা তৈরী করেন । তৎকালে সেখানে দশম শ্রেণী পর্যন্ত কুরআন, হাদীস, ফিকহ, ফারায়েজ, বাংলা, ইংরাজী, অংক প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হত । আব্দুল হাই শাহ্ (রহ:) এবং তাঁর সমকালীন মুরব্বীগণ এই হাই মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। কুরআন হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সিনিয়র ও হাই মাদ্রাসার নামে জমি দান করেন । তার পরিমাণ আনুমানিক সাড়ে চারশত বিঘা । এই জমির আয় এবং সরকার প্রদত্ত কিছু অনুদান দ্বারা হাই মাদ্রাসা পরিচালিত হত। সময়ের পরিক্রমায় দিন দিন এই হাই মাদ্রাসায় কোরআন হাদীসের শিক্ষা কমতে থাকে । যার প্রেক্ষিতে ১৯৪৬ ইং সালে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির একজন মুরুব্বী মরহুম জাফর শাহ কে বললেন “এই হাই মাদ্রাসায় কোরআন হাদীসের শিক্ষা বিলুপ্ত হওয়ার পথে ।

ভবিষ্যতে আমাদের আওলাদ-ফরজন্দ কুরআন-হাদীসের শিক্ষা হতে মাহরুম হয়ে যাবে ।” তখন মরহুম জাফর শাহ্ বললেন, তাহলে কী করতে হবে? তখন মুরুব্বী বলেন, হাই মাদ্রাসায় তোমার মায়ের ওয়াকফ ইনদাল্লাহ্ ২৭ (সাতাশ) বিঘা জমি আছে, তা কোন নির্দিষ্ট মাদরাসার নামে নেই । যেখানে কোরআন হাদীসের শিক্ষা হবে, তার আয় সেখানে বৰ্তিবে সেজন্য ঐ জমি হাই মাদ্রাসা থেকে বের করে তা দিয়ে আমরা একটি ফুরকানিয়া মাদ্রাসা তৈরী করি । তখন মরহুম জাফর শাহ্ বলেন, চল হাই বাবুর কাছে যাই । তখন এই দুই মুরুব্বী মরহুম আব্দুল হাই শাহ্ এর কাছে গিয়ে হাই মাদ্রাসার সব হালত বললেন । এবং নতুন করে ফুরকানিয়া মাদ্রাসা তৈরী করার কথাও বললেন। তিনি এটা সমর্থন করলেন । তখন তাদের মাঝে মাদ্‌রাসার জায়গা নিয়ে আলোচনা হয় । অতঃপর এই তিন মুরুব্বী মরহুম জিল্লুর রহমান সাহেবের নিকট গিয়ে হাই মাদ্রাসার হালত বললেন এবং ফুরকানিয়া মাদ্রাসার ঘর নির্মাণ করার জায়গা চাইলেন । তিনিও এই প্রস্তাব সমর্থন করলেন এবং মাদ্রাসার জায়গা দিতে সম্মত

হলেন । তারপর মরহুম আব্দুল হাই শাহ্ পোরশার ১৫/২০ জন মান্যগণ্য ব্যক্তিকে ডেকে হাই মাদ্রাসার হালত সম্পর্কে জানালেন । এই পরামর্শ সভায় তাঁরা সকলেই একমত হলেন যে, আমাদের আওলাদ ফরজন্দ তথা ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন কুরআন হাদীস শিক্ষা করতে পারে এরূপ একটি দ্বীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সর্বসম্মতিক্রমে মাদ্রাসার নাম দেওয়া হল, ‘ পোরশা ইসলামিয়া মাদ্রাসা’ ।

পরামর্শ সভায় উপস্থিত মুরুব্বীগণের নাম:
১. মরহুম আব্দুল হাই শাহ
২. মরহুম জিল্লুর রহমান শাহ্
৩. মরহুম ইয়ার মুহাম্মদ শাহ্ ৪. মরহুম নুরুদ্দীন হাজি
৫. মরহুম জাফর শাহ্
৬. মরহুম হাজি শামসুদ্দীন শাহ্ ওরফে সমা শাহ্
৭. মরহুম কাসেম শাহ
৮. মরহুম হাজি ইদরীস শাহ্
৯. মরহুম সোলাইমান শাহ্
১০. মরহুম আব্দুল আলী শাহ
১১. মরহুম আব্দুর রহমান শাহ্ ওরফে আদু বাবু
১২. মরহুম আব্দুর রহীম শাহ্ ওরফে ধলা শাহ
১৩. মরহুম ডাঃ হাবিবুর রহমান শাহ
১৪. মরহুম মেহেদী শাহ
১৫. মরহুম নূরা হাজি হারে
১৬. মরহুম হাদী শাহ
১৭. মরহুম তাহের শাহ্
১৮. মরহুম ঈসা শাহ্
১৯. মরহুম আব্দুর রহমান শাহ্ (বাঁশবাড়ি)

মাদ্‌রাসার ভিত্তি স্থাপন:
পোরশা গ্রামের তৎকালিন মুরুব্বীগণ কুরআন হাদীস শিক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি দ্বীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার রায় দিলেন। সে সময় ইংরেজী ১৯৪৬ সনে মোতাবেক হিজরী ১৩৬৬ সনের রমজান মাসে যাকাত আদায়ের জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা ইয়াকুব সাহেব (রহ:) পোরশা তাশরীফ এনেছিলেন । তৎকালিন মুরুব্বীগণ তাঁর সংগে নতুন মাদ্রাসা সম্পর্কে আলোচনা করেন । তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব (রহ:) কে নিয়ে এসে মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করার পরামর্শ দিলেন । মুরুব্বীগণের পরামর্শে রমযানের পরই হাজী ইদ্রীস শাহকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পাঠানো হল । তিনি মুহতামিম সাহেবকে ট্রেনযোগে রহনপুর নিয়ে আসেন । সেখান থেকে হাতীর পিঠে চড়ে পোরশায় আসেন । তারপর গণ্যমান্য ব্যক্তিগণকে মাদরাসার সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করে পরামর্শ দেন । এবং ১৯৪৬ ইং মোতাবেক ১৩৬৬ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করে দোয়া করেন ।

মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন:
১৯৪৬ ইং বাংলা ১৩৫৩ মোতাবেক ১৩৬৬ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে মাননীয় মৌলভী শাহ্ জিলুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে মাদ্রাসা পরিচালনা করার জন্য একটি শক্তিশালী নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয় । তাতে মুহাম্মদ জাফর শাহকে সেক্রেটারী মনোনিত করা হয় ।

নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ:
১ । মুহাম্মদ জাফর শাহ্ সেক্রেটারী ২। মুহাম্মদ আব্দুল হাই শাহ ৩ । ইয়ার মোহাম্মদ শাহ ছা
৪। মুহাম্মদ কাসেম শাহ
৫ । মুহাম্মদ জিলুর রহমান শাহ্
৬। ডা: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শাহ্
৭ । মুহাম্মদ ইদ্রীস শাহ্
৮ । মুহাম্মদ সুলাইমান শাহ্
৯ । মুহাম্মদ আব্দুল আলী শাহ্

মাদ্‌রাসার সূচনা:
১৯৪৬ইং সাল মোতাবেক ১৩৬৬হিজরী সনে মাদ্রাসার বর্তমান জায়গায় ভিত্তি স্থাপন করার পর অস্থায়ীভাবে মাদ্রাসার পড়াশুনা ও কার্যক্রম শুরু হয় পোরশা বড় জামে মসিজদে । প্রথম শিক্ষক ছিলেন নোয়াখালীর মাও. সাঈদ আহমাদ (রহ:) । ছাত্র ছিলেন জনাব আলী আহমাদ শাহ্, নুরুল ইসলাম শাহ্ (সাবেক ক্যাশিয়ার), আলহাজ্ব সিরাজুদ্দিন শাহ্, পোরশা মাদ্রাসার বর্তমান শাইখুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ রেজাউল কারীম সাহেব (রহ:), হাফেজ বদিউল আলম শাহ্, মোজাহারুল শাহ্, মতিউর রহমান শাহ্ প্রমুখ । সি
বড় মসজিদে পড়াশুনার কার্যক্রম চলে দুই বৎসর । তারপর মুহা: এনায়েতুল্লাহ্ শাহ্ এর বাড়ীতে ১ (এক) বৎসর, তারপর মৌলভীপাড়া ইলি হাজীর বাড়ীতে ১ (এক) বৎসর পড়াশুনা চলতে থাকে । এর মধ্যে ১৩৬৮ হিজরীতে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব (রহ:), মাও: আব্দুল হাই সাহেব ও মাও: আলী আহমাদ সাহেবকে শিক্ষক হিসেবে পাঠান । ১৩৭০ হিজরী মোতাবেক ১৯৫০ ইং সনে মাদ্রাসার নতুন ঘরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয় । অতপর এই নতুন ঘরে মাদ্রাসার পড়াশুনা ও কার্যক্রম শুরু হয় ।

প্রথম মুহতামিম নিয়োগঃ
১৩৭১ হিজরী সনে হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব (রহ:) হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মুহা: সালেহ আহমাদ সাহেব (রহ: ) কে প্রথম মুহতামিম হিসেবে পাঠান । তিনি মাদরাসার পরিচালনার সাথে সাথে নাহু, সরফ, ফেকাহ্ ও হাদীসের কিতাবাদী পাঠ দান করতেন । তিনি সব বিষয়ের উপর অভিজ্ঞ ছিলেন । বাংলা, আরবী, উর্দু এবং ফার্সীতে তার হস্তলিপি খুবই সুন্দর ছিল । তাঁর প্রচেষ্টায় মাদ্রাসার তা’লীম-তরবিয়ত শিক্ষা-দীক্ষা দিন দিন উন্নতি লাভ করতে থাকে । তিনি আধ্যাত্মিক লাইনে মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ্ (রহ:) থেকে খেলাফত প্রাপ্ত হন ।

যুগে যুগে মুহতামিমগণ:

১ম মুহতামিম: মাওলানা মুহা: সালেহ আহমদ সাহেব (রহ:)) ২৪ বৎসর ।
২য় মুহতামিম: মাওলানা আলী আহমাদ সাহেব (রহ:) ৪ বৎসর (২ বারে) ।
৩য় মুহতামিম: মুহাদ্দেস আব্দুর রব সাহেব (রহ:) ২ বৎসর ।
৪র্থ মুহতামিম: শাইখুল হাদীস রেজাউল করীম সাহেব (রহ:) ১৪ বৎসর (২বারে)

অস্থায়ী মুহতামিম: মুহাদ্দেস ফজলুল করীম সাহেব ও মাওলানা মুহা: ইউসুফ সাহেব (রহ:) (প্রায় ১ বৎসর) ।
বর্তমান মুহতামিম : আলহাজ্ব মাওলানা শরিফুদ্দীন সাহেব (দা:বা:) ১৯৯৮ইং সাল থেকে

দাওরায়ে হাদীসের সূচনা:
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেব (রহ:) ছাত্রদের তা’লীম-তরবিয়ত সহ সার্বিক বিষয়ে উন্নতির ব্যাপারে তৎপর ছিলেন । শিক্ষক হিসেবে অনেক দক্ষ সুযোগ্য ওলামায়ে কেরাম ঠিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শে ও আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে ১৩৮০ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৯ সালে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম দাওরায়ে হাদীস এই মাদরাসায় চালু করা হয় । ১ম শাইখুল হাদীস ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত হাটহাজারী এলাকার মাওলানা আব্দুল হক ইসলামাবাদী সাহেব (রহ:)।

যুগে যুগে শাইখুল হাদীসগণ:
১ম শাইখুল হাদীস: মাওলানা আব্দুল হক ইসলামাবাদী (রহঃ) চট্টগ্রাম ।
২য় শাইখুল হাদীস: মাওলানা নূর আহমাদ (রহ:) (বক্তাহুজুর) চট্টগ্রাম ।
৩য় শাইখুল হাদীস : মাওলানা শামসুল আলম সাহেব (রহ:) চট্টগ্রাম ।
৪র্থ শাইখুল হাদীস: মুফতী মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব (রহ:)।
৫ম শাইখুল হাদীস: মাওলানা আব্দুর রব (রহ:) লাকসাম কুমিল্লা।
৬ষ্ঠ শাইখুল হাদীস: মাওলানা ফজলুল করীম রংপুরী (দা:বা:)।
৭ম শাইখুল হাদীস বর্তমান শাইখুল হাদীস: মাওলানা রেজাউল করীম সাহেব (রহ:)।

বর্তমান শাইখুল হাদীস: মাওলনা আব্দুল্লাহ সাহেব (দা:বা:) ।

যুগে যুগে মাদ্রাসার সেক্রেটারীবৃন্দ:
রেজুলেশন ও দলিল মোতাবেক এই মাদ্রাসার-
১ম সেক্রেটারী : মরহুম জাফর শাহ্ ৫ (পাঁচ) বৎসর (১৯৪৬-৫০ ইং) ।
২য় সেক্রেটারী: মরহুম আব্দুল হাই শাহ্ ২১ (একুশ) বৎসর (১৯৫১-৭২ ইং)
৩য় সেক্রটারী: মরহুম আব্দুল আলী শাহ্ ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর (১৯৭২-৮৫ ইং)
৪র্থ অস্থায়ী সেক্রেটারী: মরহুম মুহা: ইদরীস শাহ্ (১৯৮৫ইং কয়েক মাস)
৪র্থ সেক্রেটারী : মরহুম ফজলুল করীম শাহ্ প্রায় আড়াই বৎসর (১৯৮৬-৮৮ ইং)
৫ম সেক্রেটারী: মরহুম ইয়াহ্ইয়া শাহ্ ১৮ (আঠার) বৎসর (১৯৮৮-২০০৬ ইং)
৬ষ্ঠ সেক্রেটারী : মরহুম মুহা: মতিউর রহমান শাহ্ ০৬ (ছয়) বৎসর (২০০৬-২০১২ ইং)
বর্তমান সেক্রেটারী: আলহাজ্ব মোঃ মাহ্‌ফুজাল আজিম শাহ্ (২০১৩ হতে)

প্রতিষ্ঠাতা:
মরহুম আব্দুল হাই শাহ্
মরহুম আব্দুল হাই শাহ্ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে মাদ্রাসার সংগে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন । তিনি সেক্রেটারী হওয়ার পূর্বেও মাদ্রাসার সার্বিক কার্যাদী সম্পাদন করার ব্যাপারে তৎপর ছিলেন । তাঁর মেধা, শ্রম, মন-মস্তি স্ক, জান-মাল সব কিছু মাদরাসার জন্য নিবেদিত ছিল । তিনি ২০ বৎসর সেক্রেটারী পদে আসীন ছিলেন এবং মৃতুর আগ পর্যন্ত দৈনিক মাদ্রাসায় এসে বিভিন্ন কাজের তদারকি করতেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত ধর্মানুরাগী ছিলেন। তাঁর বিচক্ষনতা সমাজ তাঁর বিচক্ষনতা সমাজ সেবা, দানশীলতা সর্বজন বিদিত । তিনি পোরশা হাই মাদ্রাসা কাম হাই স্কুলেরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন । এবং পোরশা মার্কাজ মসজিদ ১৩৫৯ হিজরীতে সংস্কার ও পুন:নির্মান করেন । পোরশাবাসীর যাতায়াতের কষ্ট লাঘব করার জন্য সুতরইল থেকে পোরশা মিনা বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন । এছাড়া পোরশা ও তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাঁকো নির্মাণ ইত্যাদি সামাজিক কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন । এই মনিষী ১৯৭২ সনের এপ্রিল মাসে পোরশা বাসীকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে ক্ষনস্থায়ী দুনিয়া থেকে স্থায়ী জগতে পাড়ি জমান । আল্লাহ তা’আলা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন । আমীন ।

মাদ্রাসার শিক্ষা-বিভাগ সমূহ:
নূরানী-মক্তব বিভাগ:
এ বিভাগে সু-দক্ষ ক্বারী সাহেবদের মাধ্যমে নূরানী পদ্ধতিতে সহীহশুদ্ধ রূপে কুরআন শরীফ ও দু’আ মাসাইল শিক্ষা দেয়া হয় ।
পাশাপাশি ২য় শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা, গণিত, ইংরেজী, ভূগোল ও ইতিহাস শিক্ষা দেয়া হয় ।

হিফজ বিভাগ: এ বিভাগে অনুর্ধ্ব ৩/৪ বছরে পূর্ণ কুরআন শরীফ তাজবীদ ও হৃদরের সাথে মুখস্থ করানো হয় ।
কিতাব বিভাগ: এ বিভাগে প্রাথমিক স্তর থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত কুরআন- হাদীস, তাফসীর, ফিকাহ্, আরবী সাহিত্য, আরবী ব্যাকরণ, প্রভৃতি বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মন্ডলী দ্বারা শিক্ষা দেয়া হয়। সাথে সাথে প্রয়োজনীয় বৈষয়িক জ্ঞান অর্জনের জন্য বাংলা, গণিত, ইংরেজী ইত্যাদি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।

উচ্চতর বিভাগ সমূহ:
ক) ইফতা বিভাগ: এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চুড়ান্ত পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের ২ বৎসর ব্যাপি উচ্চতর ইসলামী ফিকহ ও ইফতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । এ বিভাগটি ১৯৮৮ইং সালে চালু করা হয় । Son ফিকহ তখন প্রধান মুফতী ছিলেন মুফতী মুহাম্মদ ইদরীস কাসেমী সাহেব (দা.বা.) । তিনি বর্তমানে শায়খুল হাদীস নোয়াখালী কোলাকোপা ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও সহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “কাশফুল বারী” সহ বহু গ্রন্থ প্রণেতা ।

খ) তফসীর বিভাগঃ এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রদের উচ্চতর তাফসীর বিভাগে ১ বৎসর ব্যাপী শিক্ষা দেওয়া হয়। এ বিভাগ ২০১২ ইং হতে চালু হয়।
গ) হাদীস বিভাগ: এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রদের উচ্চতর হাদীস বিভাগে ১ বৎসর ব্যাপী শিক্ষা দেওয়া হয় । এ বিভাগ ২০১৩ ইং হতে চালু হয় ।
ঘ) আরবী সাহিত্য বিভাগ: এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছাত্রদের উচ্চতর আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞ আদীব সাহেবদের তত্বাবধানে শিক্ষা দেয়া হয়। এ বিভাগটি ২০১০ ইং সাল হতে খোলা হয়েছে।
ঙ) ক্বিরাত বিভাগ: এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছাত্রদের উচ্চতর ক্বিরাত ও তাজবীদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । এ বিভাগটি ২০০৫ইং সালে চালু হয়।

মাদ্রাসার অন্যান্য বিভাগ সমূহ:
ফতওয়া বিভাগ: এ বিভাগ থেকে সর্ব সাধারণ কে দৈনন্দিন জীবনের ধর্মীয় সমস্যা বলীর সমাধান প্রদান করা হয় ।
দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ: দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মাঝে ঈমান, আমল ও দ্বীনি চিন্তা চেতনা উজ্জিবীত করার জন্য এ বিভাগটি চালু আছে । প্রতি সপ্তাহে দু’তিন । দুতিননি) জামাত ২৪ ঘন্টার জন্য দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় বের হয় । এবং প্রতি বছর ওয়াজ মাহফিল ও ইসলাহী জোড়ের ব্যবস্থা করা
হয় ।

প্রকাশনা ও প্রচার বিভাগ: কেন বর্তমানে এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বার্ষিক স্মরণিকা, আলহিদায়া (দেয়ালিকা) আরবী, বাংলা, উর্দু, বাৎসরিক ক্যালেন্ডার, রিপোর্ট, ইত্যাদি ।
চিকিৎসা বিভাগ: এ বিভাগ থেকে দৈনন্দিন অসুস্থ ছাত্র-শিক্ষকদের কে ফ্রি হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয়।
দারুল হিদায়া পাঠাগার: এ বিভাগ থেকে পাঠ্য বই ছাড়া ধর্ম, সমাজ, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক বই পুস্তুক পড়ার জন্য দেয়া হয়।
কুতুব খানা: দেশ বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতি সম্পন্ন মনীষীদের বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখিত বহু গ্রন্থের বিশাল গ্রন্থাগার । এ বিভাগ থেকে কোন ফি ছাড়া ছাত্র ও শিক্ষকদের কে পাঠ্য কিতাবাদী ও এর ব্যাখ্যা সংক্রান্ত সহায়ক গ্রন্থ প্রদান করা হয় ।
ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ: এ বিভাগে দ্বীনের দায়ী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আরবী, বাংলা, ও উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করা হয়। এখান থেকে সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ ও দেয়াল পত্রিকা বের করার ব্যবস্থা নেয়া হয় ।

মাদরাসার আয়-ব্যয়:
দারুল হিদায়ার তিনটি ফান্ড রয়েছে। (১) চাঁদা ফান্ড (২) সদকা ফান্ড (৩) মসজিদ ফান্ড
আয়ের উৎস:
চাঁদা ফান্ডের আয়ের উৎস হচ্ছে সাধারণ মুসলমানগণের পক্ষ থেকে অনুদান, মৌসুমী ধান্য আদায়, সভার চাঁদা, ওয়াফিয়া জমীর আয় ইত্যাদি ।
সদকা ফান্ড: সদকা ফান্ডের আয়ের উৎস হচ্ছে মুসলমান দেশ বাসীর পক্ষ থেকে যাকাত, ফিতরা, উশর, কাফফারা, ছদকা মান্নত, কুরবানীর চামড়ার মূল্য ইত্যাদি ।
মসজিদ ফান্ড: মসজিদ ফান্ডের আয়ের উৎস হচ্ছে ওয়াক্ফকৃত জমির আয় ও সাধারণ মুসলমানের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত অনুদান ।

ব্যয়ের খাত:
চাঁদাঁ ফান্ড: চাঁদা ফান্ড হতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন, মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ, সংস্কার, কিতাব খরিদ ইত্যাদি খাতে ব্যয় করা হয়।
সদকা ফান্ড : সদকা ফান্ড হতে ইয়াতীম-গরীব ছাত্রদেরকে তিন বেলা খাবার দেয়া হয়। ত * মসজিদ ফান্ড হতে ইমাম, মুয়াযযিন ও খাদেমের বেতন এবং মসজিদের যাবতীয় আসবাব-পত্র ক্রয় করা হয় ।

স্থায়ী আয়:
এই মাদ্রাসায় পোরশার বিভিন্ন দাতাদের পক্ষথেকে প্রায় এক হাজার বিঘা জমি ওয়াক্ফ । তাছাড়া মরহুম জিল্লুর রহমান শাহ জমি দান করেন প্রায় চার শত বিঘা অর্ধেক পোরশা মাদ্‌রাসা আর অর্ধেক পোরশা চ্যারিটেবল ডিস্পেনসারীতে মাদ্রাসার বিল্ডিং ঘর সমস্ত তাদের দানকৃত জমির উপর অবস্থিত ।
আল্লাহ তা’আলা তাদের কে উভয় জগতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন!

হিসাব বিভাগ:
মাদ্রাসার সার্বিক আয়-ব্যয়ের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে করা ও রক্ষণা বেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিভাগ চালু আছে। এ কাজ যথাযথ ভাবে আঞ্জাম দেয়ার জন্য আমানত দার হিসাব রক্ষক/ক্যাসিয়ার নিযুক্ত আছে এবং প্রতিবছর বছর শেষে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন জনগেনের সামনে পেশ করা হয় ।

যুগে যুগে ক্যাশিয়ারগণ:
১ম সামিত : ক্যাশিয়ার হাজী ইদরীস শাহ (রহ:)
২য় ক্যাশিয়ার মুহা: মাসুদ শাহ (রহ:)
৩য়: ক্যাশিয়ার নুরুল ইসলাম শাহ্ (রহ:)
বর্তমান ক্যাশিয়ার: মোঃ ইউসুফ

জনাব আল্লামা রেজাউল করীম সাহেব (রহঃ) স্মরণে
নাম মুহাম্মদ রেজাউল করীম, পিতা: কাসেম শাহ্, দাদা: আব্দুল আজিজ শাহ্। এ মহাপুরুষ আনুমানিক ১৯৩৬ ঈসায়ী সনে নওগাঁ জেলার অন্তর্গত পোরশা থানার পোরশা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন । তিনার পড়াশুনার সূচনা হয় তৎকালিন পোরশা হাই মাদরাসায় । তারপর ১৯৪৬ সনে দারুল হিদায়াহ । পোরশা মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হলে পড়াশুনার জন্য এখানে চলে আসেন ।

সেখানে জামাতে উলা পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে অধ্যয়ন করেন । অতঃপর হাদীসের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ১৯৫৭ সনে বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদ্রাসা ভর্তি হন । ১৯৫৮ সনে মোতাবেক ১৩৭৯ হিজরী সনে কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন । এরপর নিজ জন্মভূমির ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ জামিয়া আরারিয়া দারুল হিদায়াহ পোরাশায় ১৩৭৯ হিজরী সনে অধ্যাপনার কাজে নিয়োজিত হন । এর এক বছর পর ১৩৮০ হিজরী সনে পুনরায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় ফিকাহ তাফসীর মানতেক, আদব, ফালসাফা ও তাসাউফের বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন ।
অতঃপর রংপুর জেলার গোড়গ্রাম মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় সুদীর্ঘ পাঁচ বছর অধ্যাপনার কাজ করেন অতঃপর আবার নিজ জন্মভূমির প্রসিদ্ধ বিদ্যাপিঠ দারুল হিদায়াহ পোরশা মাদরাসায় দরস ও তাদরীসের কাজে আত্মনিয়োগ করেন । এরপর মৃত্যু পর্যন্ত সহীহ বুখারী শরীফ ২৬ বছর যাবৎ পাঠ দান করেন । সর্বমোট ৫৮ বছর যাবৎ-এ জামিয়ার খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে ১৪ বছর তিনি জামিআ’র মুহতামিম (পরিচালক) ছিলেন । দরস ও তাদরীসের পাশাপাশি তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধির প্রতি যত্নবান ছিলেন। সর্বপ্রথম হযরত মাওলানা আব্দুল আব্দুল ওহাব সাহেব (রহ:) এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। তার ইন্তেকালের পর মাওলানা ফজলে আহমাদ (রহ:) এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে খেলাফত প্রাপ্ত হন । শাইখুল হাদীস (রহঃ) সহজ সরল জীবন যাপন করতেন । সর্বদা হাসিমুখে নরম ভাষায় কথাবার্তা বলতেন । সারা জীবন গুরুত্ব সহকারে একাগ্রতার সাথে দরস দিতেন । এর পাশাপাশি জন সাধারণের আমল আখলাক

সংশোধনের জন্য ওয়াজ-নসীহত ও আত্মশুদ্ধির খেদমত আনজাম দিয়েছেন । তিনি অনেক দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইলমী খিদমত কবুল করুন এবং কিয়ামত পর্যন্ত জারী রাখুন। আমিন!! নিয়ে ১৪১১ ইলমে হাদীসের এই উজ্জল নক্ষত্র বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২৫শে জিলকদ ১৪৩৩ হিজরী মোতাবেক ১২ই অক্টোবর ২০১২ সনে রাত ১২.১৫ মি. এ অসংখ্য তালেবে ইলম, ছাত্র এবং জন সাধারণকে দুঃখের সাগরে ভাসায়ে পরকালের পথে যাত্রা করেন । জামি’আর মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে শাইখুল হাদীস (রহ:) চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ।
باغ حى يه علم كا ايك خوشنما كلزار هو ” يه رضائی کاروان بهی علم کا آبيار هو
অর্থ: আব্দুল হাই শাহ (রহ:) এ বাগান একটি মনোরম কানন হউক,
হযরত মাওলানা রেজাউল করিম (রহ:) এর এ কাফেলাও ইসলামের পরিচর্যাকারী হউক
عزم واخلاص ويقين كارهنما كردار هو * فيض وهابي مطيعي جهدسی ضوبار هو
যাদ
অর্থ: দৃঢ় সংকল্প, ইখলাস এবং ইয়াকীনের অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী হউক,
হযরত শাহ্ আব্দুল ওহাব (রহঃ) এর ফয়েজ ও বরকত এবং মতিউর রহমান শাহ্ (রহ:) নিরলস প্রচেষ্টায় আলো বর্ষনকারী হউক।

জনাব আলহাজ্ব মতিউর রহমান শাহ (রহ:) এর স্মরণে
গত ৭ মুহাররম ১৪৩৪ হি. মোতাবেক ২২ নভেম্বর ২০১২ ঈসায়ী রোজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্তেকাল করেন, অত্র জামি’আর দীর্ঘদিনের সেক্রেটারী মরহুম আলহাজ মতিউর রহমান শাহ । তিনি প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ জামি’আর খেদমত করেছেন । তিনি অধিকাংশ সময় জামি’আয় উপস্থিত থেকে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতেন। জামি’আর যে কোনো কঠিন সমস্যার সমাধানে তাঁর অবদান স্মরণীয় । তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, মক্তব ও গরীব- দুখীদের জন্য তার ধন সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন । তিনি অত্যন্ত

সহজ-সরল ও সদালাপী ছিলেন । তাঁর বুদ্ধিমত্তা খুব প্রখর ছিলো । সকলের নিকট দু’আর আবেদন যে, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করেন। আমীন!!

জনাব নূরুল ইসলাম শাহ্ (রহঃ) স্মরণে
গত ৮ রবিউল আওয়াল ৩২ হি. মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারী ‘১১ ইং রোজ শনিবার বিকেলে আলাহ্ তা’আলার সান্নিধ্যে চলে গেলেন, অত্র জামিয়ার দীর্ঘদিনের ক্যাশিয়ার জনাব নূরুল ইসলাম শাহ্ (রহ.) । তিনি প্রায় ষাট বছর যাবত জামিয়ার ক্যাশিয়ার ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি 2 গবিরা কুড়ি মাদরাসা মসজিদের ইমাম ছিলেন। তারপর পোরশা তা’লীমুন্নিসা মাদরাসার শিক্ষক হন। সেখান থেকে অত্র জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনাব আব্দুল হাই শাহ্ (রহ.) তাঁকে পোরশা দারুল হিদায়া মাদরাসায় নিয়ে এসে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব অর্পন করেন।
তিনি সে সময় থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন । তিনি অত্যান্ত আমানতদার ও বিশ্বস্ত ছিলেন । তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে কোন খিয়ানত পাওয়া যায়নি । মাদরাসার প্রতিটি ফান্ডের আয় ও ব্যায়ের হিসাব পৃথক-পৃথক করে সচ্ছভাবে লিখে রাখতেন । এমনকি তিনি আকস্মিকভাবে (মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে) অসুস্থ হয়ে ইন্তেকালের পরেও হিসাব-নিকাশে কোন প্রকার অমিল পাওয়া যায়নি। এই মনিষী আমানতদারীর সাথে-সাথে ব্যক্তি জীবনে খুবই সাধা-সিধে এবং ধর্মপরায়ণ ছিলেন । তিনি খুব কম কথা বলতেন, অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজে লিপ্ত হতেন না। যার দৃষ্টান্ত বর্তমানে বিরল । আল্লাহ তা’আলা তাঁকে জাযায়ে খায়ের দান করুন ।
পরিশেষে সকলের নিকট দু’আর আবেদন যে, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন । আমীন!!

শিক্ষা বোর্ড গঠন:
শিক্ষা-দীক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নওগাঁ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব কওমী মাদ্রাসা নিয়ে ১৪১৯ হি. মোতাবেক ১৯৯৮ ইং সনে একটি শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের নাম ইত্তেফাকুল মাদারিস আল আরাবিয়া আল কাওমিয়া নওগাঁ বাংলাদেশ। তার প্রধান কার্যালয় পোরশা দারুল হিদায়াহ মাদ্রাসা। বোর্ডের আওতাভূক্ত মাদ্রাসাগুলো কার্যালয় অফিসে এসে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নতি ও শিক্ষক ছাত্রের বিষয়ে সর্ব প্রকার আলোচনা করে থাকে । এ বোর্ডের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়।
مدرسه گلشن جنت معلم مثل گل، علم دين اسكا شهد هى طالبا مثل بلبل آئی تهی هم مثل بلبل شیر گلشن کیلئی، خوش رهو تم باغ بانوهم تو اینی گهر جلی
অর্থ: মাদরাসা জান্নাতের বাগান, শিক্ষক ফুলের ন্যায়
তার মধ্যে মধু হলো ইলমে দ্বীন, ছাত্রগণ
বুলবুলি পাখির মত
আমরা বুলবুলি পাখির মত বাগানে
ভ্রমন করার জন্য এসেছিলাম
হে মালিগণ (শিক্ষক) আপনারা সুখে থাকুন
আমরা আপন বাড়ী রওনা হলাম ।

জামিআ পরিদর্শনে যারা তাশরীফ এনেছেন:
* হযরত আল্লামা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব (রহ:) হাটহাজারী, চট্রগ্রাম ।
* হযরত মাওলানা সাঈদ আহমাদ (রহ:) হাটহাজারী, চট্রগ্রাম ।
* হযরত মাওলানা আহমাদুল হোসেন (রহ:) জিরি মাদরাসা, চট্টগ্রাম ।
* শাইখুল হাদীস আল্লামা ইয়াকুব সাহেব (রহঃ) হাটহাজারী, চট্রগ্রাম ।
* আওলাদে রাসুল আল্লামা সায়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ:) দেওবন্দ, ভারত।
* আওলাদে রাসূল আল্লামা মুস্তফা আল মাদানী (রহ:) ।
* খতীবে আজম আল্লামা সিদ্দিক আহমদ (রহ:) চট্রগ্রাম ।
* শায়খুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা হাজী ইউনুস সাহেব (রহ:) পটিয়া, চট্টগ্রাম ।
* শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ:) ঢাকা ।
* হযরত আল্লামা মুফতী আব্দুর রহমান সাহেব (রহ:) বসুন্ধারা, ঢাকা
* ব্যারিষ্টার মাওলানা মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ্, (রহ:) চট্রগ্রাম ।
* হযরত আল্লামা আহমদ শফী (রহ:) হাট হাজারী, চট্রগ্রাম ।
* শায়খুল মাশায়েখ হযরত মুহাম্মদুল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর) ঢাকা।
* আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী (রহ:) পটিয়া, চট্টগ্রাম ।
* আল্লামা নুরুদ্দিন গওহর পুরী (রহ:) সিলেট
* হযরত মাওলানা সুলতান আহমাদ নানূপূরী, চট্টগ্রাম
* মাও: ফজলুল করীম (রহ:) পীর সাহেব, চরমোনাই, বরিশাল ।
* হযরত মাওলানা আহমাদুল্লাহ্ (রহ:), চট্টগ্রাম ।
* হযরত মাওলানা মুফতী নুরুল হক (রহ:), চট্রগ্রাম ।
* হযরত মাওলানা গিয়াসুদ্দীন (রহ:) পীর সাহেব বালিয়া, মোমেনশাহী।
* হযরত মাওলানা মুফতী সাইফুল ইসলাম (রহ:) হাতিয়া)
* হযরত মাওলানা ইউসুফ তাউলী (রহঃ)
* আরেফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা হাকীম আখতার সাহেব (রহ:) পাকিস্তান
* শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হক আজমী (রহ:) দেওবন্দ, ভারত
* জনাব ডাঃ ইসলামুল হক (রহ:), ভারত ।
* হযরত আল্লামা আব্দুল হাফিজ মক্কী (রহ:),
আরও অনেক বুযুরগানে দ্বীন ও ওলামায়ে কেরাম তাশরীফ এনেছেন ।

জামিআর স্মৃতিবাহক কবিতা
জামিয়ার সদর গেটের বাহির অংশে লিখিত:
له الباعة باتخف رمحض
یادگار اہل پورشہ گلشن حی این مقام * برکت یعقوب صالح عبدو باب بمام
(১) ইহা আব্দুল হাই শাহ্ এর এলেমের বাগান যা পোরশা বাসীর স্মৃতি বাহক । মাওলানা ইয়াকুব সাহেব মাওলানা সালেহ আহমাদ এবং মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেবের বরকতে ধন্য।
چشمہ وحصن و چمن از علم فخر برانام * بلبلان تشنۂ دین ادخلو با بالسلام
(২) (এই মাদ্রাসা) এলেমের ঝরনা, দূর্গ এবং কানন যা প্রতিটি মানুষের গর্ব । হে এলমে দ্বীন পিপাসু বুলবুলিরা সালাম (শক্তি) সহকারে তাতে প্রবেশ করো ।

জামিয়ার উত্তর বিল্ডিংয়ে লিখিত :
مدرسہ دارالہدایہ مشعل راہ ہدا * در دیار ظلمت دین گشت این بدرالدجى
(৩) দারুল হেদায়াহ্ মাদ্রাসা হেদায়েতের পথের মশাল ।
এটি ধর্মীয় অন্ধাকারাচ্ছন্ন এলাকার জন্য অন্ধকার রাতের পূর্ণিমার চাঁদ ।
را ببر كامل مشيرش حضرت عبدوهاب * دست عبدالحی بنائش کرد بازو دوشتاب
(৪) এই মাদ্‌রাসার উপদেষ্টা ছিলেন পীরে কামেল মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব (রহ:)। যা আব্দুল হাই শাহ্ (রহ:) এর শক্তিশালী দুই হস্তে নির্মিত ।
جملہ ارباب بصیرت با عطاو یک زبان * برمعین با حی و صالح در پس اقبال آن
(৫) সমস্ত দূরদর্শি, দানশীল ব্যক্তিগণ ঐক্যবদ্ধ – আব্দুল হাই (রহ:) ও মাওলানা সালেহ আহমদ (রহ:) এর সহযোগিতায় এ জামে’আর উন্নতি অগ্রগতি করার জন্য ।
بود قومی دین پسنداین مدرسه ر حامیان با خلوص پر عقیدت و عقیدت وقف کرده جان ومال
(৬) ধর্মপ্রিয় জনগণ হয়েছে এই মাদ্রাসার মাদদগার ইখলাস ও আকীদাতের সঙ্গে নিষ্ঠা ও ছাওয়াবের আশায় করেছে কুরবান জান ও মাল ।
يا الهى رحم کن بر روح شان روز جزا * برمعينان ومحبان فضل گرداں اے خدا
(৭) হে ইলাহী ! রহম কর তাঁদের রূহের প্রতি কিয়ামত দিবসে- অনুগ্রহ কর হে আল্লাহ্! সকল সহযোগী ও মুহিব্বীন/ মাদ্রাসা প্রেমিকদের তরে ।

জামিয়ার সদর গেটের ভিতর অংশে লিখিত:
حمكيمي دار فضل قد بناها * تسر الناظرين از كا هداها
১৯৪৬ ইং ১৩৬৬ হিঃ
(৮) প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা’আলা ফযীলত পূর্ণ এলেমের ঘর বানিয়েছেন । যা দর্শকদেরকে আনন্দিত করে, তাই এর হেদায়েতের আশ্রয় গ্রহণ কর ।
سقى الطلاب عمر امذ بناها * غفورى الخافض افخز وانظروها
৪৬৬৫ = ১৩৫৩ + ১৯৪৬ + ১৩৬৬ ১৩৫৩ বাংলা
(৯) আল্লাহ তা’আলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তালেবেইলমদেরকে দানের সুধা পান করাচ্ছেন। যিনি অতি ক্ষমাশীল ও নিচুকারী তোমরা মাদ্রাসা দেখ ও গর্বিত হও।
بلبلان باغ حی تمکوخدا حافظ سلام ہوں تمہاری نظر خير و سيركا شائق مدام
(১০) হে আব্দুল হাই শাহর ইলমের বাগানের বুলবুলিরা । তোমাদেরকে খোদা হাফেজ, সালাম । তোমাদের দৃষ্টি হোক কল্যাণ ও সফরের প্রতি সদা আগ্রহী।

জামিয়ার মনোগ্রাম পরিচিতি:
জামিয়ার এই মনোগ্রামটি। ১৯৯৮ ইং সনে তৎকালীন শিক্ষা বিভাগীয় দফতরের সদস্যগণ মাও. হুমায়ূন কবীর (দা. বা.) মাও. আব্দুল বাতেন (দা. বা.) মুফতী মুস্তাফিযুর রহমান (দা. বা.) ও মাও. হাফিযুর রহমান (দা.বা.) সম্মিলিতভাবে তৈরী করেন । মনোগ্রামের প্রতীক মরুভূমি, পাহাড় ও খেজুর গাছ দ্বারা আরব দেশ ও মক্কা-মদীনা বুঝানো হয়েছে, যেখান থেকে ইল্‌ম ও হিদায়েতের সূচনা ।
**
আর নৌকা প্রতীক দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, পানিপথে নৌকা যোগে আরব দেশ থেকে ইল্‌ম ও হিদায়েত ভারত বর্ষ হয়ে আমাদের বাংলাদেশে এসেছে। অত:পর ইল্‌ম ও হিদায়েতের মূল গ্রন্থ কুরআন শরীফের চর্চা পোরশা দারুল হিদায়া মাদরাসায় দোয়াত-কলমের মাধ্যমে হচ্ছে । এখান থেকে ইল্ম ও হিদায়েতের আলো চন্দ্র ও সূর্য্যের ন্যায় সারা বিশ্বে ছড়াচ্ছে ।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্ৰ
আল জামি’আ আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ্ পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ
বিভাগসমূহ:
১. নূরানী মক্তব বিভাগ, ২. হিফযুল কুরআন বিভাগ, ৩. কিতাব বিভাগ (দোয়াযদাহম থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত) ৪. উচ্চতর ক্বেরাত বিভাগ (এক বছর) ৫. উচ্চতর ইফতা বিভাগ (দুই বছর) ৬. উচ্চতর তফসীর বিভাগ (এক বছর), ৭. উচ্চতর হাদীস বিভাগ (এক বছর), ৮. উচ্চতর আরবী সাহিত্য বিভাগ (এক বছর)

জামি’আর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ :
* সকল বিভাগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী কর্তৃক পাঠ দান ।
* সার্বক্ষণিক উস্তাদের নেগরানী ।
* উচ্চতর বিভাগসমূহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামাগণের সংশ্রবপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ক্বারী, মুফতী, মুহাদ্দিস ও আদীবগণের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত । মুতালা’আ করার মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশ
* তিন বেলা খানা প্রদান।
* জামাতে হাফতম থেকে দাওরা, ইফতা, তফসীর, হাদীস, আরবী চা সাহিত্য, ক্বেরাত পর্যন্ত স্পেশাল খানা প্রদান ।
* দাওরায়ে হাদীসসহ উচ্চতর সকল বিভাগে মাসিক সম্মানি ভাতা প্ৰদান ।
বি.দ্র. জামি’আর সকল বিভাগে প্রতি বছর ২৩তম সংবিধান মোতাবেক ৯ই শা’বান হিজরী বর্ষে ভর্তি শুরু হবে ইনশাআল্লাহ ।
ভর্তিচ্ছুক তালেবে-ইলমদেরকে যথা সময়ে আবেদন করতে হবে ।


শেয়ার করুন !!
Scroll to Top